ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করার আর্টিকেল পাবলিশ হয়ে গেছে। পড়ুন।

কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করবেন? (ফ্রি কিংবা ডোমেইন হোস্টিং)

ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করা এখন অন্য সব সময়ের চেয়েও খুব সহজ। শুধুমাত্র কয়েকটা ধাপ ফলো করে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি সম্ভব।

আচ্ছা আপনারা কখনো ওয়ার্ডপ্রেস টিউটোরিয়াল বাংলা ‘য় খুব সহজ ভাষায় পেয়েছেন নাকি? যেটা নতুনদের কিংবা প্রফেশনালদের জন্য পুরো গাইড লাইন।

নতুনদের জন্য হবে কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করবেন। যেখানে আপনারা ফ্রিতে পুরো এক বছরের জন্য সার্ভার (হোস্টিং) এবং সাবডোমেইন পেয়ে যাবেন।

আচ্ছা এখানে যেহেতু ডোমেইন এবং হোস্টিং এর কথা এসছে তােই নতুনদের জন্য এক লাইনে ডোমেইন এবং হোস্টিং সম্পর্কে বলে যাচ্ছি।

ডোমেইন নেম হচ্ছে এমন এক নাম যেখানে আপনার ওয়েবসাইটের ঠিকানা নির্ধারিত হয়। যেমন Google.Com, এখানে গুগল নামটা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের নাম। আর .com যেটা আছে সেটা হলো ডোমেইন নেম।

এরকম আরো অসংখ্য ডোমেইন নেম আছে। .com, .net, .org, .ai ইত্যাদি। আবার দেশভিত্তিক আলাদা এক্সটেনশন আছে যেমনঃ .bd (বাংলাদেশ), .in(ইন্ডিয়া), .us (ইউনাইটেড স্টেট অফ আমেরিকা)।

এবার যদি আমি আপনাদেরকে হোস্টিং সম্পর্কে বলি তাহলে হোস্টিং হল আমার পরিচিত ওয়েবসাইটের যে ফাইলগুলো কিংবা ডাটা অথবা পুরো ওয়েবসাইট সহ ওয়েবসাইট রিলেটেড সকল ফাইল যেখানে হোস্ট করে রাখা হয় সেটাকে হোস্টিং বলে।

এই ডোমেইন এবং হোস্টিং এগুলো একবারের নতুনদের জন্য বলেছি। কারণ যারা ওয়েব প্লাটফর্ম গুলোতে আছেন তারা ডোমেন হোস্টিং সম্পর্কে নতুন নয়।

ওয়ার্ডপ্রেস কি এবং কেন ব্যবহার করবেন?

আমি যদি খুব সহজ ভাষায় এই সংজ্ঞাটা দেই তাহলে ওয়ার্ডপ্রেস হলো এমন একটি CMS (Content Management System) যেখানে আপনারা আপনাদের কনটেন্টগুলো সহজে ম্যানেজ করতে পারবেন।

অর্থাৎ খুব সহজে কোন প্রকার কোডিং কিংবা টেকনিক্যাল নলেজ ছাড়া আপনারা আপনাদের ওয়েবসাইট কিংবা কনটেন্ট পরিচালনা করতে পারবেন।

যারা খুব অল্প সময়ে তাদের একটা ওয়েবসাইট তৈরি করতে চাচ্ছেন তাদের জন্য ওয়ার্ডপ্রেস সবার সেরা।

কারণ এই ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে এতো অসংখ্য ওয়েবসাইট তৈরি হচ্ছে যেটা পুরো ইন্টারনেটের পায় ৪৩%। তাই নতুন পুরাতন কিংবা ব্লগার অথবা ই-কমার্স যেকোনো কিছুই বিল্ড আপ করতে পারবেন।

এবং এ সকল ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট গুলোতে অসংখ্য থিম এবং প্লাগইন আছে যেগুলো দিয়ে আপনি আপনার ওয়েবসাইটকে মিনিটেই অনলাইন স্টোর কিংবা কোনো ম্যাগাজিনে রুপান্তর করতে পারবেন।

তাই এটা কতটা পাওয়ারফুল এবং আপনাকে কতটা সুবিধা দিতে পারে তা একটু পরে আপনারা যখন পুরো সেটআপ দিবেন তখন বুঝতে পারবেন।

ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করার উদ্দেশ্য

আচ্ছা যেহেতু আমি প্রতিনিয়ত অনেক জনকেই তাদের প্রয়োজনমতো ওয়েবসাইট তৈরি করে দিচ্ছি ওয়ার্ডপ্রেস এর মাধ্যমে সেক্ষেত্রে আপনাকে আগে বুঝতে হবে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরির উদ্দেশ্য কোনটা।

আমি আপনাদের কারো সহজ ভাবে বলি। এ কথাটির মানে হচ্ছে আপনারা ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে যে ওয়েবসাইটটি তৈরি করতে চাচ্ছেন সেটা কি কারণে।

মানে আপনি ব্লগিং করবেন নাকি ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করবেন অথবা আপনার উদ্দেশ্য যদি শুধু ওয়ার্ডপ্রেস শেখা হয়ে থাকে তাহলে আপনার জন্য ধারাবাহিকভাবে ভিন্ন গাইডলাইন ফলো করতে হবে।

প্রথমে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব যে যারা শুধুমাত্র ওয়ার্ডপ্রেস প্লাটফর্মটি শিখতে চাচ্ছেন এবং পরবর্তীতে অন্যদেরকে সার্ভিস দিতে চাচ্ছেন তাহলে তাদের জন্য কিছু প্লাটফর্ম আছে যেগুলো আপনাদেরকে পুরোপুরি ওয়ার্ডপ্রেসের সকল ফাংশনের সুবিধা দেবে।

এবং তাদের সার্ভারগুলো ডিজাইন করাই হয়েছে ওয়ার্ডপ্রেস প্লাটফর্ম ব্যবহার করার জন্য।

আর যারা ব্লগিং শুরু করতে যাচ্ছেন তারা শুধুমাত্র ওয়ার্ডপ্রেস সেটাপ দিয়ে তারপরে ওয়ার্ডপ্রেস থিম কাস্টমাইজেশন কিংবা প্রয়োজনীয় প্লাগিন সেটাপ দিলেই হবে।

আবার যারা ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করার কথা ভাবছেন তাদের জন্য ওয়ার্ডপ্রেস পুরো নিখুঁতভাবে শিখতে হবে এবং জানতে হবে।

TasteWP দিয়ে ওয়ার্ডপ্রেস শিখুন

বর্তমানে যারা রেডিমেট সাবডোমেইন এবং হোস্টিং দিয়ে ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করতে চাচ্ছেন তাদের জন্য TasteWP প্ল্যাটফর্মটি নানা রকম সুবিধা দিচ্ছে।

যেখানে আপনি এই ওয়েবসাইটে গিয়ে লগইন করে সাথে সাথে একটা ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং সাত দিনের জন্য।

এখন যারা অভিজ্ঞ আছেন তারা বেশিরভাগ সময় বলে থাকেন এটা তো লোকাল সার্ভারে করা যায় সব সময়ের জন্য।

তাদেরকে বলব হ্যাঁ অবশ্যই লোকাল সার্ভারে করলে আপনি যখন খুশি তখন ওয়ার্ডপ্রেস সাইট চালাতে পারবেন।

কিন্তু যারা একেবারে নতুন তাদেরকে ডোমেইন হোস্টিং এবং ওয়ার্ডপ্রেস এই তিনটার কম্বিনেশনে একসাথে অনলাইনে শেখাতে পারলে তাদের জন্য সামনের দাপগুলো সহজ হবে।

যাই হোক আমি লোকাল সার্ভার বা নিজ কম্পিউটাকে কিভাবে সার্ভারের রূপান্তর করে সেখানে ওয়ার্ডপ্রেস সেটআপ দেওয়া যায় সেটাও দেখাবো।

আপনারা যারা এখন TasteWP দিয়ে আপনাদের প্রথম অনলাইন ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট সেটআপ দিতে চাচ্ছেন তারা নিজের ছবিটি ফলো করুন।

এখানে এই ছবিটিতে বাম পাশে উপরের কোনায় লেখা আছে "Create New Site"। আপনারা এই লেখাটিতে বা এই অপশনটিতে ক্লিক করবেন।

ক্লিক করার পর একটা পপ আপ পেইজ আসবে এবং সেখানে একটা লিস্ট দেখা যাবে। তখন দেখতে পাবেন কিছু অপশন এ টিক  দেওয়া আছে এবং কিছু অপশনে টিক দেওয়া নেই।

আপনারা এখানে এই অপশন গুলোর কোন কিছুই পরিবর্তন না করে একবারে নিচে দুটো বাটন দেখতে পারবেন একটা হল “Create Temp Site"এবং অপরটা "Create Premium Site"।

যদি Create Premium Site এ ক্লিক করেন তাহলে আপনাদেরকে টাকা দিয়ে (পে করে) এই সাইটটি তৈরি করতে হবে।

যেখানে আপনাদের থেকে মাসিক এবং বাৎসরিক চার্জ ধার্য করবে। তাই আমার মত আপনারা যেহেতু এখন নতুন শিখতে এসেছেন আপনারা Create Temp Site এ ক্লিক করে ৭ দিনের জন্য একটা টেম্পোরারি ওয়েবসাইট তৈরি করে নিবেন।

Create Temp Site এ ক্লিক করার পর অটোমেটিক আপনাদের ওয়েবসাইট তৈরি হয়ে যাবে এবং আপনারা ওয়ার্ডপ্রেস ড্যাশবোর্ড দেখতে পারবেন।

ফ্রিতে ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরি করুন

আপনি যদি অনলাইনে ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে তাহলে আপনার প্রয়োজন একটা ডোমেইন এবং একটা হোস্টিং।

যেখানে ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনতে টাকা খরচ হয়। এক্ষেত্রে আপনি টাকা খরচ করবেন তখন, যখন আপনি পুরো প্রফেশনাল হয়ে যাবেন।

এবং তাৎক্ষণিকভাবে আপনি যদি আপনার একটা ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান অথবা পুরনো অভিজ্ঞতা থাকে।

কিন্তু আপনি যদি নতুন হয়ে থাকেন তাহলে আপনি ফ্রিতে ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন তাও এক বছরের জন্য সম্পূর্ণ ফ্রি।

এক্ষেত্রে বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্ম আছে যারা আপনাকে বিনামূল্যে হোস্টিং দিবে এবং একটি সাবডোমেইন দিবে।

(সাবডোমেইন হলো মূল বা মেইন ডোমেইন এর সাব-নাম বা ভার্সন। যেমন Google.Com যদি মেইন ডোমেইন হয় তাহলে মূল ডোমেইন এর সাথে আরেকটা সাব-নাম যুক্ত করলে সাব ডোমেইন হয়ে যায়। যেমন Mail.Google.Com, এখানে Mail. নামটি সাব ডোমেইন)

হোস্টিং এর মেয়াদ ক্ষেত্রবিশেষে বিভিন্ন প্লাটফর্মে এক বছর পর্যন্ত থাকে। তাই নিচের আলোচিত কয়েকটি প্লাটফর্মে দেখে নিন কোনটাতে কত সময় পর্যন্ত ফ্রিতে দিচ্ছে।

000webhost - হোস্টিংগার এর সাব ব্র‌্যান্ড

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ডোমেইন হোস্টিং এর নাগালের ভিতরে বা রেগুলার ইউজারদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে Hostinger

এরা খুব ভালো মানের সার্ভিস দিয়ে আসছে। এবং এই কোম্পানির আরও একটি সাব কোম্পানি আছে যেটার নাম 000ওয়েভহোস্ট।

তাদের এই প্লাটফর্মটিতে আপনি সাইন আপ করার সাথে সাথে একটি সাবডোমেইন এবং ৫ জিবি স্টোরেজ পেয়ে যাবেন।

এবং সেই হোস্টিং প্যানেলে আপনারা সহজেই ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করতে পারবেন। এবং আপনার সাইটটির সাথে সাথে অনলাইনে ভিজিবল হয়ে যাবে।

তবে যে সকল কোম্পানী ফ্রিতে হোস্টিং সার্ভিস দিয়ে আসছে তারা দেখা যায় কয়েকদিন পর আর ফ্রিতে দেয় না। তাই আপনারা এই প্লাটফর্ম গুলো ব্যবহার করার আগে দেখবেন যে এখন আর তারা ফ্রিতে অফার করছে কিনা। না হলে তো পরে আবার আমাকে বলবেন আমি আপনাদেরকে ভুল তথ্য দিচ্ছি।

Infinity Free - ফ্রি এর জন্য সেরা

আপনারা ইনফিনিটি ফ্রি প্লাটফর্মটিতে একাউন্ট খোলার সাথে সাথে ৫ জিবি স্টোরেজ পেয়ে যাবেন। এবং আপনাকে এই হোস্টিং এর মেয়াদ দেওয়া হবে এক বছর।

যেখানে আপনারা একটা সাবডমেন পেয়ে যাবেন এবং যেটা আপনার হোস্টিং এ অটোমেটিক কানেক্ট করা থাকবে।

আপনারা এখানে ইনফিনিটি ফ্রি তে ক্লিক করে সেই ওয়েবসাইটে চলে যাবেন। এবং যাওয়ার পর ইমেইল দিয়ে সাইনআপ করে নিবেন।

তারপরে আপনাদের অ্যাকাউন্ট খোলা হয়ে গেলে প্লাটফর্মটিতে লগইন করে নিবেন। এবং লগইন করার পরে নিচের ছবিটির মতো একটা ড্যাশবোর্ড ওপেন হবে।

আপনারাও ঠিক এরকম স্ক্রিন দেখতে পারবেন। এখানে আপনারা উপরের তিনটা অপশন দেখতে পাচ্ছেন, এর মধ্যে মাঝে যে অপশনটা স্ক্রিপ্ট ইনস্টলার (Script Installer) বাটনটিতে ক্লিক করবেন।

এর পরে আপনারা যে পেজটিতে যাবেন সেখানে একবারে শুরুতেই ওয়ার্ডপ্রেস আইকন দেখতে পারবেন এবং সেখানে ইন্সটল বাটন দেখতে পারবেন।

তাই বরাবরের মত সহজ ভাবেই ইন্সটল বাটনে ক্লিক করলেই ইন্সটল হয়ে যাবে।

(আপনাদেরকে অ্যাকাউন্ট লগইন কিংবা এসব ইন্সটল করা আমি দেখাচ্ছি না এই কারণেই যে এগুলো অনেক ক্ষুদ্র বিষয়, এগুলো দেখিয়ে আপনাদের সময় নষ্ট করবো না)
আপনারা এই ইনফিনিটি ফ্রী প্লাটফর্মটি ব্যবহার করলে আসলেই অনেক সুবিধা পাবেন। কারন এই প্লাটফর্মটি দিচ্ছে সর্বোচ্চ সুবিধা।

যেমন এখানে শুরুতেই দেখতে পাচ্ছেন ডিস্ক স্পেস যেটা 137/5। মানে আমার এখানে আমি ৫ জিবি স্টোরেজ এর মধ্যে ১৩৭ এমবি মাত্র খরচ করেছি।

এরপরে আছে ব্যান্ডউইথ। একটা সার্ভার যখন চলে সেখানে আপনার যে ওয়েবসাইট থাকে সেই ওয়েবসাইটে যখন ভিজিটর ভিজিট করে তখন সে ভিজিটর যতক্ষণ আপনার ওয়েবসাইটে থাকবে ততক্ষণ আপনার একটা ইন্টারনেট খরচ হবে যেটা সার্ভার থেকে খরচ হয় এবং এটাকে বলা হয় ব্যান্ড উইথ।

এক্ষেত্রে এই প্লাটফর্মটি পুরো আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ দিচ্ছে। মানে আপনার সাইটে যত ইউজারই আসুক না কেন তারা যত ইন্টারনেট খরচ করুক বা যতক্ষণ আপনার সাইটে থাকুক তার সকল ইন্টারনেট আনলিমিটেড।

এবং এখানে চারটার মধ্যে শেষেরটা অর্থাৎ ডান পাশে নিচেরটা বুঝলেই হবে আর প্রয়োজন নাই।

নিজের এই অপশনটি হচ্ছে হিট uses today। মানে আজকে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটটিতে কতগুলো হিট হয়েছে বা কতজন ইউজার প্রবেশ করেছে।

আমার ক্ষেত্রে এটা মাত্র 29। কিন্তু এটার লিমিট দেখুন, আপনাকে পুরো দিনে ৫০ হাজার লিমিট দেওয়া হয়েছে।

মানে আপনার ওয়েবসাইটে দিনে ৫০ হাজারেরও বেশি হিট বা ইউআরএল ক্লিক লিমিট আছে। যেটা আপনার জন্য যথেষ্ট।

Localhost (LocalWP/XAMPP)

এতক্ষণ পর্যন্ত আপনারা যতগুলো প্লাটফর্ম সম্পর্কে পরিচিত হয়েছেন এবং যতগুলো সিস্টেম দেখেছেন সবগুলো অনলাইনে কিভাবে আপনারা একটা ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরি করবেন।

এখন আছে অনেকের অনলাইন এর প্রয়োজন নেই বা হয় না তারা সাধারণত তাদের নিজ কম্পিউটারে বা লোকালই ডাউনলোড দিতে চায়।

এর কারণ হচ্ছে অনেকের ভালো মানের ইন্টারনেট এক্সেস থাকে না। বা অনেকের কম্পিউটারে ইন্টারনেট কানেকশন থাকে না।

তাই তাদের জন্য লোকাল হোস্ট একবারে সেরা। শুধুমাত্র একবার ইন্টারনেট কানেক্ট করে একটা সফটওয়্যার ইন্সটল করলেই হয়ে যায়।

তারপর থেকে তারা যতবার ওই ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে প্রবেশ করবে ততবারই তাদের কোন ইন্টারনেটের প্রয়োজন নেই।

তাদের হোস্টিং বাস সার্ভার মূলত তাদের লোকাল কম্পিউটার হয়ে যায়।

এক্ষেত্রে লোকাল কম্পিউটার কে ওয়েব হোস্ট তৈরি করার জন্য XAMPP সফটওয়্যারটি খুবই জনপ্রিয় এবং ফাংশনালি।

কিন্তু আমি মনে করি আপনার কম্পিউটারের প্রেসার কম হওয়ার জন্য LocalWP খুবই উপযোগী।

কারণ এই সফটওয়্যারটি খুবই লাইট ওয়েট মানে হালকা। তাই আপনার কম্পিউটারের প্রেসার কম হবে এবং কাজ হবে স্মূথ।

আপনারা google এ গিয়ে LocalWP লিখে সার্চ করলেই সবার উপরে যে ওয়েবসাইটটি আসবে সেখানে ক্লিক করে সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে নেবেন।

এবং পরবর্তী সেটআপ গুলোতে গেলে খুব সহজে আপনারা লোকাল হোস্টে আপনাদের ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট সেটাপ দিয়ে দিতে পারবেন।

এক্ষেত্রে LocalWP অ্যাপসটির ভিতরেই আপনারা ওয়ার্ডপ্রেসের এডমিন প্যানেলে যাওয়ার লিংক পেয়ে যাবেন।

এখানে উপরে ডান পাশে কোনায় ”স্টার্ট সাইট” লেখায় ক্লিক করলে আপনার ওয়েবসাইটটি রানিং হয়ে যাবে। এবং WP Admin এ ক্লিক করলে ওয়ার্ডপ্রেস ড্যাসবোর্ডে নিয়ে যাবে।

প্রফেশনাল ওয়েবসাইট (ডোমেইন ও হোস্টিং দিয়ে)

এবার আসুন যারা প্রফেশনালভাবে একটা ওয়েবসাইট তৈরি করতে যাচ্ছেন ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে তাদের জন্য করণীয় কি এবং গাইডলাইন কি?

শুরুতে বলে রাখি যে প্রফেশনাল ওয়েবসাইট বলতে ওই সকলের বুঝায় যে সকল ওয়েবসাইট ফাংশনালেই পূর্ণাঙ্গ এবং তাদের উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তৈরিকৃত ওয়েবসাইট।

যেমন কেউ ব্লগিং ওয়েবসাইট তৈরি করে, আবার আবার কেউ ম্যাগাজিন ওয়েবসাইট তৈরি করে, এবং একই সাথে আমাদের দেশে এই মুহূর্তে ই-কমার্স এর একটা যুগান্তর সময় যাচ্ছে।

সেক্ষেত্রে অনেকে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে প্রফেশনালভাবে একটা ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করেন।

এখন আপনি যদি নতুন হয়ে থাকেন কিন্তু প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান তাহলে আমার এই গাইড লাইন ফলো করুন।

অথবা আপনি খুব দ্রুত সময়ের ভিতরে ওয়েবসাইটটি তৈরি করতে চাচ্ছেন সেক্ষেত্রে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এই হোয়াটসঅ্যাপে ক্লিক করে।

আচ্ছা এক্ষেত্রে এখন আপনাদেরকে দেখাবো যে আপনাদের প্রথমে ডোমেইন কিনতে হবে এবং হোস্টিং কিনতে হবে।

এরপরে আপনাদের উদ্দেশ্য বা প্রয়োজন অনুযায়ী থিমস এবং প্লাগিন সেটআপ করা। এবং এই ধাপ পর্যন্ত যেতে পারলে আপনাদের ওয়েবসাইট পুরোপুরি রেডি হয়ে যাবে।

ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনুন

আপনাদেরকে প্রথমেও একবার বলেছি যে বাংলাদেশের যে সকল ডোমিন এবং হোস্টিং প্রোভাইডাররা সার্ভিস দিচ্ছে তাদের সার্ভিস আমার মন মত হচ্ছে না।

এক্ষেত্রে আপনার পরিচিত বা কোন সার্ভিস প্রোভাইডার কে ভালো মনে হলে বা তারা ভালো সার্ভিস দিচ্ছে যদি মনে করেন তাহলে আপনি দেশের যেকোনো প্রোভাইডার থেকে ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনে নিবেন।

আর যদি মনে করেন আপনারা আন্তর্জাতিক মানের প্লাটফর্ম গুলো থেকে কিনবেন তাহলে আপনাদের জন্য সেরা চয়েজ হবে হোস্টিংগার এর ডোমেইন হোস্টিং।

এই প্লাটফর্মের ডোমেইন এবং হোস্টিং খুবই ভালো মানের বিশেষ করে হোস্টিং এর কথা যদি বলি তাদের আপ টাইম খুবই ভালো।

মানে আপনি যদি অনলাইন ওয়েবসাইট তৈরি করেন সেক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইটটি সব সময় অনলাইনে কিংবা রানিং থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এক্ষেত্রে এই হোস্টিংগার প্ল্যাটফর্মের আপ টাইম খুবই ভালো। একই সাথে এদের শেয়ার- হোস্টিং এর মান খুবই ভালো যেটা SSD Hosting। সেইসাথে তাদেরকে ক্যাপাসিটি লোডও ভালো।

এখন এই প্লাটফর্ম গুলো থেকে ডোমেইন কিংবা হোস্টিং কিনতে গেলে আন্তর্জাতিক কারেন্সি বা ডলারের প্রয়োজন।

তাই আপনারা যদি ডলার দিয়ে পেমেন্ট করতে না পারেন সে ক্ষেত্রে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমি আছি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সাপোর্ট সার্ভিস নিয়ে।

সিপ্যানেল (cPanel) পরিচিতি

সি প্যানেল - যেটাকে মূলত কন্ট্রোল প্যানেল বলা হয়। যারা একটা প্রফেশনাল ভাবে ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরি করবেন তাদের জন্য কন্ট্রোল প্যানেল এর দুই একটা ফাংশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

যেহেতু আপনারা ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট ইন্সটল দিবেন তাই আপনাদের জন্য কন্ট্রোল প্যানেলের মধ্যে একটা ফিচার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

মূল ব্যাপারটি হচ্ছে আপনি ডোমেন হোস্টিং কেনার পরে সাথে সাথে ওয়ার্ডপ্রেস পেয়ে যাবেন না। ওয়ার্ডপ্রেস যেহেতু একটি সিস্টেম তাই এই সিস্টেমটিকে সেটআপ দিতে হয়।

এবং আপনাদেরকে কন্ট্রোল প্যানেলের ভিতরে এই ওয়ার্ডপ্রেস সেটআপ দিতে হবে।

আপনি যদি একেবারে নতুন হয়ে থাকেন এবং সি প্যানেলে ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান তাহলে সি প্যানেলের একেবারে নিচের দিকে Softaculous Apps Installer নামে একটা অপশন পাবেন।

এখানে ক্লিক করার পরই নতুন যে পেজ আসবে সেই পেজে একেবারে শুরুতে ওয়ার্ডপ্রেস লোগো সহ দেখতে পাবেন।

সেথান থেকেই আপনি ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল বা সেটআপ দিতে পারবেন।

১-ক্লিকে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করুন

আপনাদের ওয়েবসাইটের কন্ট্রোল প্যানেল বা সি প্যানেলে গিয়ে Softaculous Apps Installer অপশনটি খুঁজে নিবেন।

এই Softaculous Apps Installer এর ভিতরে ক্লিক করলেই আপনারা কাঙ্খিত ওয়ার্ডপ্রেস পেয়ে যাবেন।

তবে এখানে আরেকটা কথা বলে রাখি আপনাদের অনেকের সি প্যানেলে Softaculous Apps Installer ফিচারটি নাও থাকতে পারে।

সাধারণত আপনারা যখন এমন প্রোভাইডারদের থেকে ডোমেইন হোস্টিং কিনেন যাদের সার্ভিস তেমন একটা ভালো না। সে সকল কোম্পানির মধ্যে Softaculous Apps Installer ফাংশনটি নাও থাকতে পারে।কারণ Softaculous একটি প্রিমিয়াম প্রোডাক্ট। এ সকল প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে টাকা খরচ করা লাগবে।

যাইহোক যদি একান্ত নাই পান তাহলে নিজের ছবিটির দিকে লক্ষ্য করুন।

এখানে ডোমেইন ফাংশনের ভিতরে WP Toolkit নামে একবারে প্রথমে যে অপশনটি দেখতে পাচ্ছেন সেখানে ক্লিক করবেন। তাহলেও আপনারা একই ওয়ার্ডপ্রেস পাবেন।

এবার সেখানে ওয়ার্ডপ্রেস আপনার কন্ট্রোল প্যানেলের সেটআপ করার জন্য কিংবা ইন্সটল করার জন্য বেসিক কিছু তথ্য লাগবে।

যেমন এখানে সাইট সেটিং এ আপনার ব্লগ এর নাম এবং ডেসক্রিপশন দিতে বলা হচ্ছে। আপনার সাইটের কি নাম হবে এবং ডেসক্রিপশন কি দিবেন সেসকল তথ্য।

এ তথ্য গুলো খুবই সহজ তাই আপনারা আপনাদের প্রয়োজনীয় তথ্য অনুযায়ী এ তথ্যগুলো দিয়ে দিবেন।

তবে আপনারা লোকাল হোস্টিং কিংবা ডাটাবেজ সম্পর্কিত কোন তথ্য পরিবর্তন করবেন না কিংবা বেশি মডিফাই করবেন না।

এবং সকল তথ্য আপনাদের প্রয়োজনীয় তথ্য অনুযায়ী দিয়ে দেওয়ার পরে ইন্সটল বাটনে ক্লিক করলে ইন্সটল হয়ে যাবে।

একই সাথে আপনারা ওয়ার্ডপ্রেস সেটআপ করার সময় যে ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়েছেন সেটা সংগ্রহ করে নিবেন।

তারপরে আপনার ডোমেইন নামের সাথে www.mydomain.com/wp-admin লিখে ব্রাউজারে এন্টার দিবেন।

এখানে আপনার ডোমেইন নামের সাথে wp-admin লিখে ব্রাউজ করলেই ওয়ার্ডপ্রেস লগইন ইন্টারফেস চলে আসবে।

তারপর আপনারা আপনাদের প্রয়োজন মত ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার শুরু করবেন।

ওয়ার্ডপ্রেস ড্যাশবোর্ড পরিচিতি

এখানে যে ছবিটি দেখতে পাচ্ছেন এটি ওয়ার্ডপ্রেস ড্যাশবোর্ড এর একটা ছবি। বিভিন্ন সময় আপডেটের পর হয়তো কিছু চেঞ্জ হতে পারে তবে মূল থিম এটাই।

আপনারা এখানে অনেকগুলো অপশন দেখতে পাচ্ছেন। একজন নতুন ওয়ার্ডপ্রেস ইউজারের জন্য এত অপশন এর প্রয়োজন হয় না।

একেবারে শুরুতেই আপনারা আপডেট নামে একটা অপশন দেখতে পাচ্ছেন। এই অপশনটিতে আপনারা ওয়ার্ডপ্রেস এর যত আপডেট হবে সবগুলো পেয়ে যাবেন।

এর পরে আছে পোস্ট, পোস্ট অপশনটিতে আপনারা যত আর্টিকেল কিংবা কন্টেন্ট রাইট করবেন সবগুলো এখান থেকে হবে।

মার্ক করা আরেকটি অপশন হচ্ছে অ্যাপিয়ারেন্স। এখানে আপনারা আপনাদের ওয়েবসাইটের থিম পরিবর্তন কিংবা কাস্টমাইজেশন করতে পারবেন।

একটা সাইট দেখতে কেমন হবে এবং স্ট্রাকচার এ কি কি থাকবে এই সকল কিছু নিয়ে গঠিত হয় থিম। ওয়ার্ডপ্রেসে ফ্রী এবং প্রিমিয়াম এবং অসংখ্য থিম পেয়ে যাবেন।
এবং এর পরে আছে প্লাগইন। প্লাগইনে মূলত আপনারা আপনাদের ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় ফ্রন্ট এন্ড কিংবা ব্যাক ইন্ডে ডিজাইন কিংবা ফিউচার যুক্ত করার ছোট ছোট প্লাগইন।

একটা ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট পরিচালনা করতে কিছু প্লাগইন লাগে। এই প্লাগিন গুলো দিয়ে আপনারা আপনাদের ওয়েবসাইটকে অনলাইনে বিজিবিলিটি বাড়াতে পারবেন। যেমন আপনাদের ওয়েবসাইট এসইও ফ্রেন্ডলি করতে হলে এসইও প্লাগিন ইন্সটল করতে হবে।
এবং সর্বশেষ মার্ক করা অপশনটি হচ্ছে সেটিং, এর মধ্যে আপনারা আপনাদের ব্লগ এর জেনারেল সেটিং থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় কিছু পরিবর্তন করতে পারবেন।

এছাড়াও যে সকল অপশন মার্ক করা হয়নি সেগুলোর গুরুত্ব নেই এমনটা ভাবলে ভুল হবে। প্রত্যেকটা ফিচার এর গুরুত্ব এবং কার্যাবলী আছে।

তবে একজন নতুন ওয়ার্ডপ্রেস ইউজারের জন্য আপাতত সকল ফাংশন নিয়ে ঘাটাঘাটি না করাই ভালো।

কারণ আমি নিজে ব্লগার এবং ওয়ার্ডপ্রেস দুইটা প্লাটফর্ম দীর্ঘদিন থেকে ব্যবহার করেছি।

তাই আমার ব্যক্তিগত মতামত থেকে আমি বলতে পারি আপনি যদি একজন ব্লগার হয়ে থাকেন এবং নতুন হয়ে থাকেন তাহলে মার্ক করা অপশন গুলো ব্যতীত বাড়তি আপাতত কোন কাজ নেই।

যখন আপনি মার্ক করা অপশন গুলো বুঝে যাবেন কিংবা শিখে যাবেন তখন ধীরে ধীরে অন্যগুলো নিয়ে এক্সপ্লোর করতে করতে শিখে যাবেন।

ওয়ার্ডপ্রেস ডিজাইন ও কাস্টমাইজেশন

আপনি যখন ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলবেন তখন সেই ওয়ার্ডপ্রেস এর কিছু ডিজাইন এবং কাস্টমাইজেশন এর মাধ্যমে আপনার সাইটটিকে পুরো প্রিমিয়াম লুকিং দিতে পারবেন।

ওয়ার্ডপ্রেস ডিজাইন এবং কাস্টোমাইজেশন অনেক ভাবে করা যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে সহজ হলো ওয়ার্ডপ্রেস থিম এবং কিছু প্লাগইন।

আপনি যদি আপনার সাইটের দৃশ্য বা ভিজুয়াল পরিবর্তন বা ডিজাইন করতে চান তাহলে আপনাকে থিম কাস্টমাইজেশন করতে হবে।

অর্থাৎ আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটে ওয়ার্ডপ্রেস থিম ইন্সটল করেন তাহলে প্রত্যেকটা থিমের কাস্টমাইজেশন বৈশিষ্ট্য থাকে।

এর মধ্যে জনপ্রিয় কিছু থিম যেমনঃ

  • Astra
  • GeneratePress
  • Kadence
  • Blocksy

এই থিমগুলো খুবই লাইট ওয়েট মানে হালকা। এবং একই সাথে এসইও ফ্রেন্ডলি। একটা ওয়েবসাইট সফলভাবে দাঁড় করাতে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এবার আরো কিছু প্লাগইন আছে যেগুলো দিয়ে আপনারা আপনাদের মূল সাইটের কাঠামো গত ডিজাইনের পরিবর্তন করতে পারেন।

যেমন ওয়েবসাইটের হেডার, ফুটার, বডি, সাইডবার ইত্যাদি। এছাড়াও যারা কোডিং এক্সপার্ট আছেন তারা চাইলে কোডিং এর মাধ্যমে কাস্টম সিএসএস এবং জাভাস্ক্রিপ্ট দিয়ে ডিজাইন এবং কাস্টমাইজেশন করতে পারেন।

ডিজাইন এবং কাস্টমাইজেশন এর জন্য প্রয়োজনীয় এবং জনপ্রিয় কয়েকটি প্লাগইন হলোঃ

  • Gutenberg (ডিফল্ট ব্লক এডিটর)
  • Elementor (ড্র্যাগ & ড্রপ)
  • Bricks / Oxygen (অ্যাডভান্সড)

এডভান্স ডিজাইন এবং কাস্টমাইজেশন এর জন্য আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন whatsapp বাটনে ক্লিক করে

ওয়েবসাইট তৈরির পর গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ

আচ্ছা আপনি যখন একটা ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলবেন তখন আপনার কাজ হচ্ছে এই ওয়েবসাইটটিকে অনলাইনে ভালোভাবে স্টাবলিশ করা।

কারণ আপনার ওয়েবসাইটটি তৈরি করার পরের কাজ হচ্ছে আপনার টার্গেট অনুযায়ী পারফর্ম করা।

যেমন আপনি যদি একটা ই-কমার্স ওয়েবসাইট খুলেন তাহলে অবশ্যই আপনার কাজ হবে আপনার সেলস বৃদ্ধি হওয়া।

অথবা আপনার যদি ব্লগিং ওয়েবসাইট এর প্ল্যান থাকে তাহলে আপনার কাজ হবে সে ওয়েব সাইটে কিভাবে বেশি পরিমানে ভিজিটর আনা।

এক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের বেসিক কিছু সেটআপ আছে যেগুলো করে নিলে বাকি ধাপগুলো আপনার জন্য সহজ এবং নিরাপদ হয়ে যাবে।

এসএসএল (SSL) সার্টিফিকেট অ্যাক্টিভেট করা।

আচ্ছা প্রথমে বলি যে এস এস এল সার্টিফিকেট বিষয়টা কি! মূলত আপনার ওয়েবসাইট এবং আপনার ওয়েবসাইট এর ভিজিটের মধ্যে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা।

অর্থাৎ যখন একজন ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিট করবে তখন আপনার ওয়েবসাইটে সেই ভিজিটরের সকল তথ্য নিরাপদ এবং গোপন রাখার কাজ করে এস এস এল সার্টিফিকেট।

এটা একটা অনলাইন সার্টিফিকেট বা ডিজিটাল সার্টিফিকেট যেটা সাইটের এবং ব্যবহারকারীর মধ্যে গোপনীয়তা রক্ষা করে।

যে সকল ওয়েবসাইটে এস এস এল সার্টিফিকেট থাকে না সে সকল ওয়েবসাইটে কোন ভিজিটর গেলে ব্রাউজার বাধা দেয়।

তাই আপনার যদি কোন ভাবে ওয়েবসাইটে এস এস এল সার্টিফিকেট না থাকে তাহলে আপনার ওয়েবসাইটের অনেক ভিজিটর আপনার সাইটে প্রবেশ করতে সমস্যার মুখোমুখি হবে।

এতে করে আপনার ভিজিটর কমে যাওয়ার একটা ঝুঁকি তৈরি হয়। যার ফলে আপনার ব্যবসায় ক্ষতি হতে পারে।

তাহলে এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই সার্টিফিকেট কোথা থেকে একটিভ করবেন?

এটা খুবই সহজ! আপনি যে প্ল্যাটফর্ম থেকে ডোমেইন কিনেছেন সেখানে লগইন করে ”ম্যানেজ ডোমেইন”  বাটনে ক্লিক করলে এস এস এল সার্টিফিকেট একটিভ করতে পারবেন।

পারমালিঙ্ক (Permalink) সেটিংস ঠিক করা

অনলাইনে আপনার ওয়েবসাইট একটিভ থাকার জন্য এবং ভালো পারফর্ম করার জন্য পারমালিংক সঠিক হওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

ফরমালিনক যদি ভুল হয় তাহলে সার্চ ইঞ্জিন ইনডেক্সিং এ অনেক ভুল তথ্য বা ভুলভাবে ইনডেক্সিং হয়ে গেলে সেটি গুগল সার্চ ইঞ্জিনে ভালো ফলাফল দিবে না।

তাই আপনারা এ বিষয়টিতে অনেক সচেতন হবেন এবং ওয়ার্ডপ্রেস সেটিং থেকে এটি সহজে ঠিক করে নিতে পারবেন।

গুগল সার্চ কনসোলে সাইটম্যাপ সাবমিট করা

আমরা সবাই জানি যে একটা ওয়েবসাইট তৈরি করলে সেটা ভিজিবিলিটি গুগলে শো করা বা ডিসপ্লে করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

এখন আপনি এত কষ্ট করে একটা ওয়েবসাইট তৈরি করলেন কিন্তু গুগলে সার্চ দেওয়ার পর সে ওয়েবসাইটের কোন তথ্যই আসে না তাহলে আপনার সকল কষ্ট বৃথা।

আর এই সিস্টেমটিকে বলা হয় সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন। আপনি যদি পুরোপুরি ভাবে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন না করতে পারেন তাহলে আপনার ওয়েবসাইট গুগলে আসবে না।

তাই গুগলে আপনার ওয়েবসাইটের তথ্য ইনডেক্স করানোর জন্য সর্বপ্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে গুগল সার্চ কনসোলে সাইটম্যাপ সাবমিট করা।

আপনারা গুগল সার্চ কনসোল লিখে সার্চ করলে যে ওয়েবসাইট পেয়ে যাবেন সেখানে প্রবেশ করে একাউন্ট খুলে নিবেন।

এবং তারপরে ধাপে ধাপে যে টিউটোরিয়াল গুলো আসবে সেগুলো ফলো করে সাইট ম্যাপ জমা দিবেন।

যেহেতু আমার আজকের আর্টিকেলের টপিক হচ্ছে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করার পদ্ধতি তাই আজকে আমি সার্চ ইঞ্জিন নিয়ে বেশি বলবো না। তবে আমার ওয়েবসাইটে এই রিলেটেড আরও টপিক আছে সেখানে দেখে নিতে পারেন।

ফ্রি বনাম হোস্টিং পদ্ধতি: কোনটি আপনার জন্য সেরা?

এখানে আমি আপনাদেরকে ফ্রি এবং হোস্টিং পদ্ধতি দুইভাবেই দেখিয়েছি। যে আপনারা কোন ভাবে এবং কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন।

এখন প্রশ্ন বা কথা হচ্ছে আপনাদের জন্য কোনটা সেরা? ফ্রি নাকি হোস্টিং পদ্ধতি।

এই প্রশ্নের উত্তর সম্পন্ন আপনার উপরে নির্ভর করে। আমি সহজ ভাবে এবং এক কথায় বললে উত্তর দেব আপনার যদি শেখার উদ্দেশ্য থাকে তাহলে আপনি ফ্রিতে ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করে শেখা শুরু করতে পারেন।

কিন্তু আপনি যদি সিরিয়াস ভাবে থাকেন যেমন একটি ব্লগিং ওয়েবসাইট তৈরি করবেন এবং মনটাইজ করে ইনকাম করবেন, অথবা আপনি যদি অনলাইন ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে ওয়েবসাইট খুলে থাকেন তাহলে আপনার জন্য হোস্টিং সেরা।

আর যারা হোস্টিং দিয়ে শুরু করে তাদের একটা স্বাধীনতা থাকে। যেমন ফ্রি প্ল্যাটফর্ম গুলো কয়েকদিন পর বন্ধ হয়ে যাওয়ার একটা ঝুঁকি থাকে।

তখন আপনি যদি ফ্রিতে আপনার গুরুত্বপূর্ণ কোন ওয়েবসাইট খুলে রাখেন তাহলে সেটা সাথে সাথে ভ্যানিশ হয়ে যাবে।

তাই অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইটটি কি উদ্দেশ্য খোলা হচ্ছে সেটার উপরে ভিত্তি করে আপনি ফ্রিতে খুলবেন নাকি হোস্টিং দিয়ে শুরু করবেন সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

উপসংহারঃ

আপনারা যারা প্রশ্ন করেছেন কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করা যায় তাদেরকে আমি দেখিয়েছি যে ফ্রি কিংবা ডোমেেইন হোস্টিং দিয়ে ওয়ার্ডপ্রেস তৈরি করা একবারে সহজ।

এই আর্টিকেলটি পড়ার পরে আপনারা ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরি করার পাশাপাশি ওয়েবসাইট ডিজাইন এবং কাস্টমাইজেশন ও করতে পারবেন।

শুরু করার জন্য যে ডোমেইন এবং হোস্টিং লাগে সেই ডোমেইন এবং হোস্টিং এর গাইডলাইনও পেয়ে যাচ্ছেন।

আশা করি এই গাইডলাইন টি আপনাদের যে ডিমান্ড সেই ডিমান্ড পূরণ করতে পারবে। তাই যদি এই কন্টেন্ট বা আর্টিকেলটি আপনার উপকারে আসে তাহলে অবশ্যই এই ওয়েবসাইটের সাথে থাকবেন এরকম কোন আপডেটের জন্য। ধন্যবাদ!

إرسال تعليق

Solve Point Welcome to WhatsApp chat
Howdy! Get Your Digital Problem Solver!
Type here...